দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের ক্রিয়েটর রেভিনিউ শেয়ারিং কর্মসূচি থেকে অর্থ আয়ের জন্য কৃত্রিমভাবে এনগেজমেন্ট বাড়ানোর অভিযোগে দুই কনটেন্ট নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে এক্স। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, একাধিক অ্যাকাউন্টের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজেদের পোস্টে কৃত্রিমভাবে লাইক, রিপোস্ট ও মন্তব্য বাড়িয়ে অর্থ আয় করতেন তারা।
এক্স ও এক্সএআইয়ের জেনারেল কাউন্সেল জেমস বার্নহ্যাম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মামলার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, এক্সে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড তারা সহ্য করবে না এবং প্রকৃত কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের হাইকোর্ট অব জাস্টিসে এক্স ইন্টারনেট আনলিমিটেড কোম্পানি ও এক্স করপোরেশন মামলাটি করেছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সমন্বিতভাবে রাজস্ব ভাগাভাগি কর্মসূচিতে প্রতারণা করে ২ লাখ ৬ হাজার পাউন্ডের বেশি, যা প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, আয় করেছেন।
মামলায় ভিভেক কুমার সেন ও জামিয়াং শেরপাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে আরও কেউ এই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে এক্স, যদিও তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
মামলার নথি অনুযায়ী, দুই ব্যক্তি এক্সে ক্রিপ্টোকারেন্সিবিষয়ক খবরের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং ছয়টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। অ্যাকাউন্টগুলো আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে হলেও অভিযোগ অনুযায়ী, সেগুলো একই নেটওয়ার্কের অংশ ছিল।
যেভাবে কৃত্রিম এনগেজমেন্ট বাড়ানো হতো
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, একটি অ্যাকাউন্টে পোস্ট দেওয়ার কয়েক মিনিট বা কখনো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অন্য একটি ‘সম্পর্কহীন’ অ্যাকাউন্ট থেকে একই পোস্ট প্রকাশ করা হতো। একই ছবি, একই ধরনের শিরোনাম, লেখার ধরন এমনকি একই ভুল বানানও ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ।
এরপর আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই পোস্টে মন্তব্য করা হতো। এতে পোস্টগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই বেশি মানুষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এমন একটি চিত্র তৈরি করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এক্সের ক্রিয়েটর রেভিনিউ শেয়ারিং কর্মসূচিতে এনগেজমেন্টের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় এই কৃত্রিম এনগেজমেন্ট থেকেই অর্থ আয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
যেভাবে ধরা পড়ে নেটওয়ার্ক
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টগুলোর অর্থপ্রদানের তথ্যেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। একটি অ্যাকাউন্টের অর্থপ্রদানের তথ্য ‘স্টেফান মান’ নামে নিবন্ধিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবটি ভিভেক কুমার সেনের বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্য একটি অ্যাকাউন্ট জামিয়াং শেরপার নামে নিবন্ধিত হলেও এর সঙ্গে যুক্ত ই-মেইল ঠিকানার সূত্র ভিভেক কুমার সেনের কাছে পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুটি অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও মামলার নথি অনুযায়ী, দুই অভিযুক্তই যুক্তরাজ্যের প্রেস্টনে বসবাস করেন।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে সেন বড় একটি এক্স অ্যাকাউন্ট কেনার প্রস্তাব দিয়ে বিক্রেতাকে অন্য একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এক্সের নিয়মে নিষিদ্ধ কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে যাতে তারা সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়েও তিনি বার্তা দিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এক্সের দাবি, চলতি বছরের ১৮ আগস্ট পুরো নেটওয়ার্কটি স্থগিত করা হয়। এখন অভিযুক্তদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের পাশাপাশি প্রতারণা ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের কৃত্রিম এনগেজমেন্টের বিরুদ্ধে এক্সের আইনি পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জুনে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে একটি ক্লিক ফার্ম পরিচালনার অভিযোগে আট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। ওই মামলাতেও ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও কৃত্রিম এনগেজমেন্ট ব্যবহার করে অর্থ আয়ের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
/অ